এই লেখাটির লেখক
জাহিদ হাসান জাজাফী [ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়] ভাই এবং এই লেখাটি
প্রথম আলো বন্ধু সভায় প্রকাশিত লেখা । লেখাটির রম্যতার মাঝে কিছু কঠিন সত্য বিষয় উঠে এসেছে । আমি জাজাফী ভাইকে অনুরোধ করে ছিলাম এই লেখাটি আমার এই ব্লগে প্রকাশের । উনি অনুমতি দিয়েছেন । ধন্যবাদ জাজাফী ভাইকে ।

কাশিম পুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর অনেক দায়িত্ব। সেই সব দায়িত্ব পালন করতে
মাসে দুই চারবার বিদেশ যেতে হয়। তিনি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিদেশের
খানাপিনায়। কদিন পরেইতো সরকার পরিবর্তন হতে পারে। যদি সত্যি সত্যি পরিবর্তন
হয়েই যায় তাহলে এই বিদেশ বেড়ানোর অভ্যাসটা কিভাবে সামলাবেন এটা ভেবেই তিনি
অস্থির। হাতে অতটা টাকা কড়ি নেই যা দিয়ে বাকি দিনগুলোতে বিদেশ ভ্রমন করতে
পারবেন। কিছু একটা উপায় হবে ভেবে তিনি গেলেন ননদের কাছে। ননদ বললো এক কাজ
করো অর্থ মন্ত্রীকে বলো তাহলে কিছু একটা করবেন। অথর্মন্ত্রীকে কথাটা বলতেই
তিনি বললেন আমি নিজেই আছি বিপদে। দেখতে দেখতে বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে টাকাতো
ফুরিয়ে গেছে সেই কবেই। ঋণের বোঝা এখন আমার মাথায়। ঋণ কিভাবে শোধ করবো সেটাই
ভাবছি আর এর মাঝে আপনি এসেছেন ভবিষ্যতে বিদেশ যাওয়ার টাকার বন্দোবস্ত
করতে! এভাবেতো কিছু হবে না তাই আসুন দুই জন মিলে বানিজ্য মন্ত্রীর কাছে
যাই। বানিজ্য মন্ত্রীর বাসার সামনে আসতেই দেখা গেল বানিজ্য মন্ত্রী বাসা
থেকে বের হচ্ছেন। দুই মন্ত্রীকে দেখে তিনি হেসে দিয়ে বললেন কি ব্যাপার
গরীবের দুয়ারে রাজার আগমন। অন্য মন্ত্রী দুই জন বললেন ভাইরে বিপদে পড়লে
রাজাও পথে নামে। বানিজ্য মন্ত্রী বললেন আমিওতো বিপদে আছি তাই বাসা থেকে
বেরিয়েছিলাম আপনার বাসায় যাবো বলে। এর মাঝেই আপনি চলে আসলেন বেশ ভালোই হলো।
ড্রইং রুমে বসে প্রথমে বানিজ্য মন্ত্রী বললেন সামনে বছর মেয়ের বিয়ে টাকা
পয়সার বেশ টান। তাই অর্থমন্ত্রী সাহেব আপনার বাসায় যাচ্ছিলাম যদি কিছু একটা
করেন। ওনার কথা শুনে হতাশ হয়ে গেলেন অন্য দুই মন্ত্রী। তারা বললেন হায়রে
কপাল ফকির চায় মিসকিনের কাছে ভিক্ষা। আমরাই টাকা চাইতে আপনার বাসায় আসলাম
আর আপনি কিনা আমাদের কাছে আগেই টাকা চেয়ে বসলেন। ওনারা দুই জন বানিজ্য
মন্ত্রীকে সব খুলে বললেন। সবাই বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। ফোন করলেন রেল
মন্ত্রীকে। ফোন পেয়ে তিনি হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসলেন। হাপাতে হাপাতে জানালেন
“বুঝলেন মশাই টাকার খুব টানাটানি যাচ্ছে তাই রেলের দুটো ইঞ্জিন অকেজো বলে
চালিয়ে দেব বলে ভাবছি। আসলে ওগুলো ঠিকই আছে নতুন বাজেট পাশ করিয়ে সেই টাকা
পকেটে পুরবো আর পুরোন ইঞ্জিন দুইটাই চালিয়ে দেব। “ওনার কথা শুনে অন্য তিন
মন্ত্রী হতাশ হয়ে গেলেন। সবাই ভেবেছিলেন রেল মন্ত্রীর কাছ থেকে কিছু টাকা
নেয়া যাবে তাও হলো না। সবার বিমর্ষ মুখ দেখে রেল মন্ত্রী জানতে চাইলেন ঘটনা
কি। সব শোনার পর তিনি বললেন কি আর করা সমস্যা যখন সবার চলুন সবাই মিলে
সমাধান করি। গেলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নিকট। তিনি তার বিখ্যাত উক্তি
করলেন “যুদ্ধ না থামিয়েই আপনারা শান্তিতে নোবেল পেতে চান? কেন যে আপনাদের
মন্ত্রী বানানো হলো। দেখেছেন সব চেয়ে বড় মন্ত্রনালয় আমার হাতে তবুও আমি
এলাকার কিছু করিনাই। কেন করবো বলেন? করলেতো আপনাদের মত অবস্থা হতো। ওনার
কথা শুনতে কারো ভালো লাগছিল না শেষে সবাই বললো কিছুতো একটা করেন। তখন তিনি
পরামর্শ দিলেন আরে বিদেশ যাওয়ার অতিরিক্ত আর কোন বাজেট দেয়া যাচ্ছে না,
অথর্মন্ত্রী হিসাব মেলাতে পারছেন না, বানিজ্য মন্ত্রী মেয়ের বিয়ের খরচ
জোগাড় করতে পারছেন না এটা কোন সমস্যাই না আমাদের প্রাক্তন যোগাযোগ মন্ত্রী
মশায়ের সঙ্গে আসেন আলোচনা করি তাহলে সব সমাধান হয়ে যাবে। যোগাযোগ মন্ত্রী
এলেন এবং বললেন ভাগের ভাগ তিরিশ পারসেন্ট না দিলে কোন সমাধান দেব না। উপায়
না দেখে সবাই তাতেই রাজি হয়ে গেলেন। অবশেষে তিনি বললেন এখন কেবল একটাই পথ
খোলা আছে আর তা হলো তেলের দাম বাড়াতে হবে। পাবলিকে এই একটা বিষয়ে খুব একটা
মাথা ঘামায় না। আর তা ছাড়া আমাদের বলার মত বেশ জোরালো উক্তিতো আছেই
“বিশ্বের বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, এর চেয়ে বেশি তাহলে আমাদের দেশে এইটুকু
বাড়লে দোষ কি? সবাই বললো আরে তাইতো বলি সেতু হওয়ার আগেই এতো টাকা কিভাবে
গায়েব হলো তা এখন বুঝলাম। এতো কিছুর পরও একটা বিষয় থেকেই গেল, আর তা হলো
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন। সবাই মিলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রস্তাবটা
কিভাবে যে তুলবে তাই সবাই ভাবছিল। সবাইকে এভাবে একসঙ্গে চিন্তিত অবস্থায়
দেখে প্রধানমন্ত্রী বললেন এতো চিন্তার কি আছে বলুন যা বলবেন বলে ফেলুন। তখন
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ঘটনাটা খুলে বললো। এটা শুনে প্রধান মন্ত্রীর বুক
থেকে একটা দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসলো। “বুঝলেন আমি বেশ চিন্তিত ছিলাম আগামী
নিবার্চনের খরচ যোগাড় করবো কিভাবে। আপনারাই তা বের করে দিলেন। এইতো আমার
সোনার চাদরে মোড়া মন্ত্রী পরিষদ। আমাকে কত বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচালেন।
দিন কাগজটা দিনতো সই করে দিই। আর হ্যা একটু বেশি বাড়িয়ে দিয়েন যাতে কিছু
টাকা অতিরিক্ত থাকে। আমার আবার নাতি নাতনিদের অ্যাপলের আই প্যাড কিনে দিতে
হবে। পরদিন পত্রিকায় ছাপা হলো “বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে
দেশের বাজারে তেলে মূল্য সীমিত ভাবে বৃদ্ধি করা হলো। “সাব শিরোনামে লেখা
হলো সরকার জনগণের বন্ধু তাই জনগণের কথা ভেবে বিশ্ব বাজারের তুলনায় তেলের
দাম অনেক কম বৃদ্ধি করা হলো। রাতে মন্ত্রী পরিষদে এক ভোজ সভার আয়োজন করা
হলো।