বাংলা তোমায় দেখি-
ঐ আকাশের লক্ষ আঁখির প্রজ্বলিত শিখায়
কোকিল পাখির সেই সুমধুর সুরে
আকাশে উড়ন্ত শঙ্খ চিলের ডানায়।
বাংলা তোমায় দেখি-
আমার মায়ের নকশি কাঁথার অমর ছবিতে
রেলিং এর ধারে বসা ছোট্ট চড়ুইয়ের চোখে
বরষার আকাশে চঞ্চল কালো মেঘে।
বাংলা তোমায় দেখি-
চন্দ্রালোকিত রাতের রূপময়ী প্রকৃতিতে
পাদ্মার বুকে রুপালী ঝিলিকে
শিশুর মনের অবাধ্য দুষ্টামিতে।
বাংলা তোমায় দেখি-
রাখালের বাশের বাঁশির অন্তিম সুরে
ডোবার পাশে বসে থাকা মাছরাঙার তীক্ষ্ণ চোখে
নদীর বুকে কবির ছন্দময় কবিতায়।
বাংলা তোমায় দেখি-
ধানের পাতায় দুলায়মান শিশিরে
আমার কৃষক বাবার সোনালী হাসিতে
ভরা নদীর ধারে কলমির ফুলে।
বাংলা তোমায় দেখি-
পদ্মা, মেঘনার বুকে চলা স্বাধীন চঞ্চল ডিঙ্গিতে
আঙিনায় বসা পল্লী রাতের কবিয়াল গানে
জসিম উদদীনের সেই ‘নকশি কাঁথার’ দেশে।
বাংলা তোমায় দেখি-
জীবনান্দের বাংলা প্রকৃতির অপার সৌন্দের্যে
বাঙালি হাতের দীপ্ত শিখায়
শহীদ মিনারের পাশে দোল খাওয়া রাঙা পলাশে।
বাংলা তোমায় দেখি-
রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলায়’
মুজিবের সেই সংগ্রামী মুখে
জিয়াউরের সবুজ-শ্যমলীমার স্বপ্নে।
বাংলা তোমায় দেখি-
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতায়
মুনির-জহিরের প্রতিবাদী লেখনিতে
শামসুরের সেই স্বাধীনতার কবিতায়।
বাংলা তোমায় দেখি-
হুমায়ূয়ের স্বাধীন-চঞ্চল হিমুর মাঝে
শ্যমল প্রকৃতির মাঝে একটি লাল বৃত্তে
লাখো শহীদের বুকের রক্তে গড়া একটি নামে।
