সাম্প্রদায়িক
শব্দটা আজকাল বড্ড বেশী আলোচিত
সভা, সেমিনার আর টক শো যাই বলো না কেন
‘সাম্প্রদায়িক’ আজও একটা চাপা অহংকার নিয়ে
বেঁচে আছে ।
সাম্প্রদায়িকতার শৃঙ্খলে শৃঙ্খলিত চারিদিক
অথচ শব্দটি নিয়ন্ত্রিত শিল্পের রূপে রূপায়িত
হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।
দীর্ঘ আদিম কালে যে বীজ বোনা হয়েছিলো রক্তে
তা আজও টগবগ করে ফুটছে ।
কড়িকাঠে মনুষ্যত্বের বলি চড়িয়ে কপচাচ্ছি সাম্প্রদায়িকতার বুলি
আকাশ-বাতাস জয় জয়কার
ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত করছি
মানবতার মুখোশ পরে নির্লজ্জ ভাবে ।
পুরুষত্বের বীর্যের
তেজ আজি পরীক্ষণীয়
সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ
ঘোষণা করে ।
এর শেষ কোথায় ?
অথচ চোখ মেলছি না,
বাগানের অসাম্প্রদায়িক
সদ্য প্রস্ফুটিত
ফুলগুলোর দিকে
কিংবা রাস্তায় ষাটোর্ধ
বৃদ্ধ রিকশা চালকের দিকে ।
দেখছি না – অভুক্ত শীর্ণ
শরীরধারী টোকাই নামি
হাজারো অসাম্প্রদায়িক
শিশুকে
যারা সাম্প্রদায়িক তেজে
বলিয়ান বীর্যের
বিলাসী কোন এক রাতের
অপ্রত্যাশিত ফসল ।
এরা কি হিন্দু,
খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ নাকি মুসলমান ?
এসব প্রশ্নে এরা
দিকভ্রান্ত নয়
এদের চোখে-মুখে ক্ষুধার
রাজ্য, এদের চর্ম-হাড় সর্বস্ব
দেহে শত ফুটো জীর্ণ কাপড়
।
ওরা দিকভ্রান্ত ক্ষুধা
নিয়ে, স্বপ্নহীন জীবন নিয়ে
ওরা লালায়িত এক টুকরা
শীতের কাপড়ের জন্য
কিন্তু ওরা কস্মিন কালেও
‘সাম্প্রদায়িক’ নামের বর্বর শব্দটার
আবেগে আপ্লুত হয়নি ।
তবে ওরা সবাই
সাম্প্রদায়িক ন্যাকা ভাবধারী পুরোহিতের
পবিত্র উপাসনালয় হতে
নিগৃহীত ।
ওরা বাঁচতে চেয়েছে বেঁচে
থাকার জন্য
কোন অহংকারী, নিষ্কর্মা,
অদৃশ্য দেবতার কৃপার জন্য নয় ।
